ওয়াহেদুজ্জামান সরকার
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩, ০২:১৮ পিএম
প্রিন্ট সংস্করণ

থাইল্যান্ডে পরিবর্তন কি আসবে

থাইল্যান্ডে পরিবর্তন কি আসবে

নির্বাচনে তারুণ্যের জয়

থাইল্যান্ডে গত রোববারের নির্বাচনে যেন তারুণ্যের জয় হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেনাসমর্থিত সরকারের অধীনে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে পড়া জনগণ যেন এবার আড়মোড়া ভেঙে জেগে উঠলেন। সুস্পষ্ট রায় দিলেন—আর সেনাসমর্থিত শাসন নয়, এবার চাই গণতন্ত্র। তাই তো তারা বেছে নিলেন ৪২ বছর বয়সী তরুণ পিটা লিমজারোয়েনরাতের মুভ ফরোয়ার্ড পার্টিকে (এমএফপি)। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দাবিদার এ ব্যক্তি নির্বাচনে দ্বিতীয় হওয়া ফেউ থাই পার্টির সঙ্গে সরকার গঠন করতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে চমক লাগানো ফল পেয়েছে এমএফপি ও ফেউ থাই পার্টি, সেই পরিবর্তন থাইল্যান্ডে নিয়ে আসা কতটা সম্ভব। কারণ থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরোধিতা করে সে দেশে শাসনক্ষমতায় যাওয়ার পথটি কতটা বন্ধুর, তা নিকট অতীতেও দেখেছে সে দেশের জনগণ। তাই বিপুল জয়ের পরও এমএফপি ও ফেউ থাই নতুন জোট সরকার গঠন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

রোববারের নির্বাচনে চমক লাগানো ফল অর্জন করেছে পিটার দল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। নির্বাচনে এমএফপি পেয়েছে ১৫১ আসন। যদিও শুরুতে অনেকেই চিন্তাও করতে পারেনি যে পিটার দল এমন অবিশ্বাস্য ফল অর্জন করবে। নির্বাচনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার নেতৃত্বাধীন ফেউ থাই পার্টি পেয়েছে ১৪১ আসন। শুরুতে ফেউ থাই পার্টিই এগিয়ে ছিল। যাই হোক, এ দুই দল এখন জোট সরকার গঠন করতে একমত হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিয়েই রেখেছেন পিটা লিমজারোয়েনরাত। সেইসঙ্গে ঘোষণা দিয়েছেন, আগামীতে থাইল্যান্ডকে সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে আসা হবে। বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে আর ক্ষমতা নিয়ে আসা হবে জনগণের হাতে। কিন্তু থাইল্যান্ডের রাজতন্ত্র ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর বিরোধিতা করে সে দেশে শাসনক্ষমতায় যাওয়াটা যে সহজ নয়, সেটা তিনিও ভালো করে জানেন। কারণ এর আগের নির্বাচনগুলোতেও জনগণ সেনাশাসনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সে রায়কে আদালতের মাধ্যমে বাতিল করে দেয় রাজতন্ত্র ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর মদদপুষ্টরা। আর সামরিক বাহিনী সংবিধান সংশোধন করে তাদের ক্ষমতা এতটা পাকাপোক্ত করেছে যে, থাইল্যান্ডের শাসনক্ষমতায় ‘সামরিক এলিট’দের সমর্থন ছাড়া প্রধানমন্ত্রী হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৪ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের ক্ষমতা দখলের পর নতুন করে সংবিধান সংশোধন করে সামরিক বাহিনী।

এ সংশোধনীর মাধ্যমে এটা নিশ্চিত করা হয় যে, নির্বাচনে যারাই জিতুক না কেন, দেশ কে চালাবে—তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর সমর্থন অত্যাবশ্যক। রোববারের নির্বাচনে দুই প্রধান বিরোধী দলের কোনোটিই পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে প্রয়োজনীয় ৩৭৬ আসন পায়নি। ফলে এককভাবে সরকার গঠন করার সম্ভাবনা কারোই নেই। তাই নির্বাচনে জয়ী মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি ও দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফেউ থাই পার্টিকে অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে মিলে একটি জোট সরকার গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে। কিন্তু কাজটি হয়তো খুব সহজ হবে না। কারণ থাইল্যান্ডে সরকার গঠন করতে কোনো দল বা জোটকে পার্লামেন্টের ক্ষমতাশালী সেনেটের সমর্থন পেতে হবে। সামরিক জান্তার আমলে সংস্কার করা সংবিধান অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টের ২৫০ আসনের অনির্বাচিত সেনেটের সব সদস্যই সামরিক বাহিনী থেকে বেছে নেওয়া। আর এ সেনেট এর আগে সবসময়ই সামরিক বাহিনীর পছন্দের প্রার্থীকেই সমর্থন দিয়ে এসেছে। সেনেট ও নিম্নকক্ষ মিলিয়ে মোট ৭৫০ আসনের থাইল্যান্ডের পার্লামেন্টে একজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে নিম্নকক্ষের তিন-চতুর্থাংশ ভোট নিশ্চিত করতে হবে বিরোধীদের। যা অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়াবে এমএফপি ও ফেউ থাই পার্টির জন্য।

তাছাড়া মুভ ফরোয়ার্ড পার্টির পূর্বসূরি ফিউচার ফরোয়ার্ড পার্টি ২০১৯ সালের নির্বাচনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক দিন পরেই ওই দলের বেশ কয়েকজন নেতাকে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী তহবিল ব্যবস্থাপনা বিধি ভাঙার অজুহাতে আদালতের একটি আদেশের মাধ্যমে দলটিকে বিলুপ্ত করা হয়। এবারও সেরকম কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় কি না, তাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের দুই প্রকৌশলীর আর্থিক লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

কামাল লোহানীর পঞ্চম প্রয়াণ দিবসে উদীচীর স্মরণ সভা

রাসেলস ভাইপার মারলেই ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নারী নির্যাতন মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের হতাশার ড্র

বাংলাদেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে : পলক

আফগানদের হারিয়ে সুপার এইটে শুভ সূচনা ভারতের

চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ধরা

মজুদদারদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন হচ্ছে : খাদ্যমন্ত্রী

১০

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদীর বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দি ২ শতাধিক পরিবার

১১

রাসেল ভাইপার নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া পোস্ট ভাইরাল, জনমনে আতঙ্ক

১২

ঈদের ছুটিতে ছিলেন অফিসে, মিলল লাশ

১৩

ল্যাবএইডে দিনে ৭০টির বেশি এন্ডোসকপি, অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১৪

প্রকাশ্যে মদ খেয়ে মাতলামি, জেলে গেলেন যুবক

১৫

ওসির কেরামতিতে মায়ের কোলে ‍ফিরল শিশু

১৬

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ১০ সাপ, বসবাস যেসব এলাকায়

১৭

বন্যায় ঈদ আসেনি সিলেটের নিম্নাঞ্চলে

১৮

সূর্যকুমারের ফিফটিতে ভারতের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ

১৯

ছয় গুণ বাড়তে পারে মানিকখালী ব্রিজের টোল

২০
X