কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩, ১০:১৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দেশ-বিদেশে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে : প্রধানমন্ত্রী

দেশ-বিদেশে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে : প্রধানমন্ত্রী

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটা গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে যাতে আমাদের অর্জনগুলো নস্যাৎ হয়। জনগণের ভাগ্য নিয়ে কেউ যেন ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

গতকাল বুধবার সরকারি বাসভবন গণভবনে শেখ হাসিনার ৪৩তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ে দেশে ফিরে আসেন।

জনগণকে আবারও সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণের চিন্তা করে, বাকিগুলো লুটেরার দল। তারা এদেশের মানুষের কল্যাণের কথা চিন্তা করে না। সে কথা মাথায় রেখে ওই সন্ত্রাসের দল, খুনির দল, ওই যুদ্ধাপরাধীদের দল এরা যেন আর বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার অনুরোধ জানাই। বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের আস্থা-বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ভোটের মাধ্যমেই আমরা ক্ষমতায় এসেছি। মানুষের বিশ্বাস ও

আস্থাই আমাদের একমাত্র শক্তি। আর কোনো শক্তি নেই। বাংলাদেশের জনগণই আওয়ামী লীগের একমাত্র বন্ধু, এটা মনে রাখতে হবে।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, যারা ভোট চুরি করেছে, ভোট ডাকাতি করেছে, তারাই এখন গণতন্ত্র চায়। ভোটের অধিকারের কথা বলে। যাদের জন্মই হয়েছে অবৈধভাবে, তাদের কাছ থেকে এসব কথা শুনতে হয়। এগুলো মাঠের কথা, মাঠেই থাকবে। আমরা জনতার সঙ্গে থাকব। জনতার পাশে থাকব। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করব। জনগণের জন্য কাজ করে যাব।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে সেটাও কার্যকর করে যাচ্ছি। খুব স্বাভাবিকভাবেই এ অর্জনগুলো নস্যাৎ করতে, যারা স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে—জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তাদের একটা ষড়যন্ত্র চলতেই থাকবে। কিন্তু সৎ থাকলে এবং উদ্দেশ্য যদি মহৎ হয় তাহলে যে কোনো জায়গায় সফলতা আসে। এ কথাটাই সব সময় মনে রাখি। লক্ষ্য একটাই—দেশের মানুষের জীবন উন্নত করা, তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করে দেওয়া। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন, দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে। সেই হাসি ফোটানোটাই একমাত্র কর্তব্য এবং সেটা করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আজ যখন ভূমিহীন গৃহহীন মানুষকে ঘর দিই, ঘর পাওয়ার পর তাদের মুখের হাসির চেয়ে বড় পাওয়া বা সার্থকতা আর কিছু নেই।

সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা। সেইসঙ্গে গণতন্ত্র, এটা নিয়ে অনেকেই কথা বলেন। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার কবে ছিল? পঁচাত্তর সালের পর থেকে জিয়াউর রহমান ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, ভোট নিয়ে খেলা, মানুষের ভাগ্য নিয়ে খেলা করেছে। বরং আওয়ামী লীগেরই নানা পদক্ষেপের ফলে আজকে বিভিন্ন সংস্কার করে করে নির্বাচন পদ্ধতিকে গণমুখী করা, জনগণের ভোট সম্পর্কে তাদের সচেতন করা হয়েছে। ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’—স্লোগান দিয়ে মানুষকে ভোট সম্পর্কে সচেতন করা, এটা তো আওয়ামী লীগই করেছে, আর কেউ না। নির্বাচন কমিশন করার জন্য আইন করা হয়েছে, যেখানে ভুয়া ভোটার দিয়ে তালিকা হতো, সেখানে ছবিসহ ভোটার তালিকা হয়েছে, আইডি কার্ড—সবই তো আওয়ামী লীগেরই করে দেওয়া। সবই করে দিয়েছি আমরা। তার পরও যখন কেউ ভোট, গণতন্ত্র আর নির্বাচন নিয়ে আমাদের সবক দিতে আসে, সেখানে আর কিছু বলার নেই।

সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সেইসঙ্গে উন্নয়ন কর্মসূচি যেন ত্বরান্বিত হয়, সেই ব্যবস্থাটা নিতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সংগঠন, জনগণের কল্যাণেই কাজ করে যাবে। এটাই হচ্ছে আমাদের একমাত্র প্রতিজ্ঞা। জাতির পিতার যে স্বপ্ন—দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা, সেটা আমরা ইনশাআল্লাহ করব। তিনি আরও বলেন, যেদিন ফিরে আসি সেদিন তো চেনা মুখগুলো পাইনি। কিন্তু পেয়েছিলাম এ দেশের জনগণকে, আর আমার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীকে। সেই থেকে বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ আর বাংলাদেশের জনগণই আমার পরিবার। আমি সেভাবেই নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজেই আজকে আমি এটাই বলব—উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি, এটা ধরে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে যেতে হবে। এই প্রতিজ্ঞা নিয়েই চলতে হবে। ধন-সম্পদ কারও চিরদিন থাকে না। মরলে মাটির নিচেই যেতে হবে, কেউ কিছু সঙ্গে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু বেশি করলে বদনামটা নিয়ে যেতে হয়। সেটা যেন না হয়। কোনো কিছুই স্থায়ী নয়। কারণ এটাই (আওয়ামী লীগ) একমাত্র দল যারা দেশের কল্যাণে চিন্তা-ভাবনা করে। আর বাকিগুলো তো লুটেরার দল। তারা কোনোদিন জনগণের কল্যাণে কাজ করে না। এটা মাথায় রেখেই ওই সন্ত্রাসী দল, খুনির দল বা যুদ্ধাপরাধীর দল এরা যেন দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে সবাইকে নজর দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাই।

সারাদেশে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উদযাপিত

এদিকে সকালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শুভেচ্ছা জানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করে। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল—আলোচনা সভা, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের মসজিদে মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া-মিলাদ, গরিব-অসহায় এবং পথচারী-এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ।

এদিকে মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে তেজগাঁও হলি রোজারিও চার্চে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের দুই প্রকৌশলীর আর্থিক লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

কামাল লোহানীর পঞ্চম প্রয়াণ দিবসে উদীচীর স্মরণ সভা

রাসেলস ভাইপার মারলেই ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নারী নির্যাতন মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের হতাশার ড্র

বাংলাদেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে : পলক

আফগানদের হারিয়ে সুপার এইটে শুভ সূচনা ভারতের

চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ধরা

মজুদদারদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন হচ্ছে : খাদ্যমন্ত্রী

১০

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদীর বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দি ২ শতাধিক পরিবার

১১

রাসেল ভাইপার নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া পোস্ট ভাইরাল, জনমনে আতঙ্ক

১২

ঈদের ছুটিতে ছিলেন অফিসে, মিলল লাশ

১৩

ল্যাবএইডে দিনে ৭০টির বেশি এন্ডোসকপি, অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১৪

প্রকাশ্যে মদ খেয়ে মাতলামি, জেলে গেলেন যুবক

১৫

ওসির কেরামতিতে মায়ের কোলে ‍ফিরল শিশু

১৬

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ১০ সাপ, বসবাস যেসব এলাকায়

১৭

বন্যায় ঈদ আসেনি সিলেটের নিম্নাঞ্চলে

১৮

সূর্যকুমারের ফিফটিতে ভারতের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ

১৯

ছয় গুণ বাড়তে পারে মানিকখালী ব্রিজের টোল

২০
X