সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০
অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৩, ০৮:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

জাতিসংঘের মাধ্যমে এলো অনন্য অর্জন

১৭ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অনন্য দিন। এটি শুধু শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নয়, এটি বাংলাদেশের পুনর্জাগরণের দিন। এ বছর ১৭ মে বাংলাদেশের আরেকটি অনন্য অর্জন এলো জাতিসংঘের মাধ্যমে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ‘কমিউনিটি ক্লিনিক’ পেল বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

গতকাল বুধবার জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবাবিষয়ক একটি রেজ্যুলেশন সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। ‘কমিউনিটিভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা : সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনের লক্ষ্যে একটি অংশগ্রহণমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতি’ শিরোনামের ঐতিহাসিক রেজ্যুলেশনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বাংলাদেশে কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক মডেল প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত রেজ্যুলেশনটিতে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল উদ্ভাবনী উদ্যোগের ব্যাপক স্বীকৃতি দিয়ে এ উদ্যোগকে ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনিশিয়েটিভ’ হিসেবে উল্লেখ করে। এটি জনগণের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবায় সাম্য আনয়নে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রতিফলিত করে। গতকাল সাধারণ পরিষদে রেজ্যুলেশনটি উপস্থাপন করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থনস্বরূপ জাতিসংঘের ৭০টি সদস্য রাষ্ট্র এ রেজ্যুলেশনটি কো-স্পন্সর করে।

রাষ্ট্রদূত মুহিত তার বক্তব্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা অর্জনে এ রেজল্যুশনের ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এ রেজ্যুলেশনের অনুমোদনকে ২০৩০ সালের মধ্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনের বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, রেজ্যুলেশনটির সফল বাস্তবায়ন কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরও বলেন, সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের নিমিত্ত আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে এ রেজ্যুলেশনের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। কারণ এটি সদস্য দেশগুলোয়, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক মডেল স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রবর্তন ও বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বহুপাক্ষিক এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক ও দাতাদের যথাযথ কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিতে আমন্ত্রণ জানায়। বাংলাদেশের সব মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশে এই অনন্য কমিউনিটি ক্লিনিকভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু করেছিলেন, যা সারা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের দোরগোড়ায় সরকারের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুফল সরবরাহে বিপ্লব ঘটিয়েছে। মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার এ পর্যন্ত সারা দেশে পাবলিক প্রাইভেট অংশীদাত্বে ১৪ হাজারেরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অদম্য উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এ স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকে রেজ্যুলেশনটি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে নেগোশিয়েশন করেন উপস্থায়ী প্রতিনিধি ড. মো. মনোয়ার হোসেন। মিশন গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং এর ধারাবাহিকতায় এ রেজ্যুলেশনটি এ বছরের শুরুর দিকে মিশন সদস্য রাষ্ট্রের বিবেচনার জন্য প্রস্তাব করে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে গত চার মাস নিবিড় আলোচনা ও নেগোশিয়েশনের পর প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে প্রথম সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার মডেল কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পরে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে এটি বন্ধ করে দিয়েছিল। জনগণের জন্য স্বাস্থ্যসেবার দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে ২০০৮ সালে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা পুনরায় ২০০৯ সালে এ কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেন। তিনি দেখলেন, প্রাধিকার যে প্রকল্পগুলো; তাই এটি গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করলেন। তিনি একটি মডেল উদ্ভাবন করলেন সবাইকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার জন্য। দেখলেন, সবাইকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেই। তখন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক মডেল উদ্ভাবন করলেন। তিনি বললেন, ২৫-২৬ মিনিট হাঁটার দূরত্বে একটি করে স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিক করতে। সেখানে এইচএসসি পাস লোকদের ট্রেনিং করিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে এবং সেখান থেকে যেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের রেফার করা যায়। আসলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবাকে যদি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হয়, তাহলে কমিউনিটি ক্লিনিকই একমাত্র মডেল। এ জন্যই আজকে এটাকে গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ—তারাও বলল, অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্ব। জাতিসংঘ শেখ হাসিনার অসামান্য উদ্ভাবনী নেতৃত্ব আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দিল এবং সে জন্য তারা এটার নাম দিল ‘দ্য শেখ হাসিনা ইনেশিয়েটিভ’। অর্থাৎ ১৯৯৮ সাল থেকে যে মডেলটি শেখ হাসিনা শুরু করেছিলেন, এরই মধ্যে তা বিভিন্ন দেশ অনুসরণ করা শুরু করেছে। ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের কারণেই আজ বাংলাদেশে গণতন্ত্র এসেছে। আর ২০২৩ সালের ১৭ মে জাতিসংঘের এ প্রস্তাব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পথ তৈরি করল।

লেখক : সাবেক উপদেষ্টা, চেয়ারম্যান, বিএমআরসি

ইমেইল : [email protected]

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুষ-দুর্নীতির আখড়া জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিস

মীন রাশিতে কাজে সফল হওয়ার দিন আজ

২৭ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

প্যারিসে ভাষা দিবস উপলক্ষে পঞ্চ কবির গানের সন্ধ্যা

বাবাকে কুপিয়ে জখম, ছেলে গ্রেপ্তার

আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপের ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

পথ হারানো ৩১ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল পুলিশ

শিক্ষা সফরে মদপান, দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

১০

মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা!

১১

রাতের ঢাকায় নতুন মাদক

১২

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

রংপুরকে উড়িয়ে ফাইনালে লিটনের কুমিল্লা

১৪

যুগান্তরের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে

১৫

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার

১৬

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভিকারুননিসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

১৭

করোনায় আক্রান্ত ডিবি প্রধান হারুন

১৮

‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের প্রস্তাব বাতিল

১৯

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীনবরণ

২০
X