কালবেলা মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স, ৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা, শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত।
জামাল হোসেন
মিতু যাচ্ছিল স্কুলে। আজ দেরি করে ফেলেছে। সবাই আগে আগে। সে পেছনে। কেন পেছনে? কারণ মিতুর একটা পা নেই। ক্রাচে ভর করে হাঁটে। এ জন্য তার স্কুলে যেতে একটু দেরিই হয়।
মিতুর কাঁধে স্কুলব্যাগ। ব্যাগের গায়ে দারুণ একটা পাখির ছবি। ছবিটা মিতু নিজেই এঁকেছে। সে অনেক সুন্দর ছবি আঁকে।
কিছুদূর যেতেই একটা ছায়াঘেরা রাস্তা। আশপাশে কেউ নেই। মিতু গুনগুন করে ছড়া বলতে বলতে হেঁটে যায়।
হঠাৎ মিতু চমকে উঠে বলল, এটা কী? ওমা কত্ত বড় একটা পাখি! আরে! এটা তো আমার আঁকা সেই পাখিটা!
কিন্তু এ পাখিটার নাম তো সে জানে না। পাখিটা এমন করছে কেন? মিতু এগিয়ে গেল পাখির কাছে।
মিতুকে দেখে পাখিটা খুব খুশি হলো মনে হচ্ছে। ডানা ঝাপটে দু-তিনবার ডিগবাজিও খেল। তারপর মানুষের মতো করে বলল, ‘ওহ তুমিই তো আমার ছবিটা এঁকেছ। আমি তোমাকেই খুঁজছিলাম। আমি অনেক দূরের পাখিরাজ্য থেকে এসেছি।
মিতু বলল, বাহ, কী মজা। পাখির রাজ্যে পাখিরাই থাকে?
পাখিটা বলল, তোমার আঁকা ছবিটা আমার খুব ভালো লেগেছে। তাই তোমার জন্য উপহার এনেছি। এই নাও।
এই বলে পাখিটা মিতুকে একটা সাদা কাগজ দিল।
মিতু বলল, কিন্তু একটা কাগজ দিয়ে আমি কী করব?
পাখিটা বলল, এটা জাদুর কাগজ। এখানে যা আঁকবে সেটাই চলে আসবে। তবে একবারই শুধু আঁকতে পারবে। এ বলেই উড়ে গেল পাখিটা।
মিতু এগিয়ে গেল সামনে। কী দেখল? দেখল তার বন্ধুরা সবাই খালের পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গত রাতে অনেক ঝড় হয়েছিল। খালের পাশে যে সাঁকোটা ছিল সেটা ভেঙে গেছে। এ কারণে সবাই দাঁড়িয়ে আছে। কেউ স্কুলে যেতে পারছে না।
এমন সময় মিতুর মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। সে বের করল তার জাদুর খাতা। কিন্তু একটা মাত্র কাগজ। সে তো চাইলে এ কাগজে অনেক ধনরত্ন আর বড় প্রাসাদও আঁকতে পারে। কিন্তু কেন যেন মিতুর ওসব আঁকতে ইচ্ছে করল না। সে ঠিক করল এতে এমন কিছু আঁকবে, যাতে সবার উপকার হবে।
এরপর মিতু ছবি আঁকতে শুরু করল। সবাই গোল হয়ে দেখছে, কী আঁকছে মিতু।
একটা লাঠি, দুটো লাঠি। তারপর অনেকগুলো দড়ি, খুঁটি। কত কী যে বসাচ্ছে মিতু। পেনসিল দিয়ে ঘষে ঘষে কোথাও দিল ছায়া আর কোথাও আলো। শেষে আঁকতে আঁকতে হয়ে গেল একটা সেতু। দেখেই মনে হয় অনেক মজবুত আর শক্ত সেতু। তারপর কী ঘটল?
তারপর, সবাই সামনে তাকিয়ে দেখে খালের ওপর একটা সেতু হয়ে গেল। মিতু যেমনটা এঁকেছে ঠিক সেরকম।
সবাই ঘটনাটা জানল। এরপর সবার এক প্রশ্ন, মিতু নিজের জন্য কিছু না এঁকে এমন একটা সেতু আঁকল কেন? মিতু বলল, সে সবার কথা ভেবেই সেতুটা এঁকেছে। এরপর সবাই সেতু পার হলো। পরদিন থেকে মিতুকে আর কেউ একা ফেলে যায় না। সবার সঙ্গেই স্কুলে যায় সে।
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
পোস্টাল ব্যালট বাতিলে নতুন নির্দেশনা ইসির
১
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা
২
ঘরে সহজেই যেভাবে ‘বান্নি ইয়ার ক্যাকটাস’ লাগাবেন ও যত্ন নেবেন
৩
বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য আমাদের খারাপ লাগছে : ট্রুডি লিন্ডব্লেড
৪
‘তোর ভাইকে মাথায় গুলি করিয়ে মেরেছি, তোকে মারতে আমি যাব’
৫
বিশ্বকাপ বয়কটের কোনো পরিকল্পনা নেই ডাচদের
৬
৯ ঘণ্টা পর তিন রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
৭
১১৫ বছরে প্রথমবার দলিল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন
৮
ডাকসু ইস্যুতে সেই নেতার বিরুদ্ধে জামায়াতের অ্যাকশন
৯
চট্টগ্রাম-২ আসনে হাইকোর্টে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির সারোয়ার
১০
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন পাক কিংবদন্তি
১১
লাগাতার বিতর্কে আলোচনার তুঙ্গে ডাকসু নেতা সর্বমিত্র
১২
বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েও বিপত্তিতে পড়েছে স্কটল্যান্ড
১৩
চিনি ছাড়া কফি কি স্বাস্থ্যকর, জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ
১৪
গোপালগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ
১৫
চাকরি দিচ্ছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
১৬
একদিকে গায়ে হাত, অন্যদিকে ফ্যামিলি কার্ড চলবে না : জামায়াত আমির
১৭
বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জনের বিপক্ষে ওয়াসিম আকরাম
১৮
জবিতে এআই ও বিজনেস ইনকিউবেশন ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
১৯
অক্সফোর্ডের গবেষণা / তাপমাত্রা নিয়ে বড় দুঃসংবাদ পেল বাংলাদেশ