সম্পাদকীয়
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩, ১০:৫৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

যমুনা নদী ছোট করার প্রস্তাব : প্রস্তাব বাতিলে সংশ্লিষ্টদের সুবিবেচনা কাম্য

যমুনা নদী ছোট করার প্রস্তাব : প্রস্তাব বাতিলে সংশ্লিষ্টদের সুবিবেচনা কাম্য
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের অন্যতম উৎস যমুনা নদী। সম্প্রতি এ নদীর প্রশস্ততা কমাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, নদীটি দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে। তাই এটির প্রশস্ততা সাড়ে ৬ কিলোমিটার সংকুচিত করতে হবে। তার জন্য প্রকল্পটির ব্যয়ও ধরা হয়েছে ১১০০ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যখন বারবার ব্যয় সংকোচনের তাগিদের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে এমন প্রকল্প স্বভাবতই পড়েছে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার মুখে। রোববার কালবেলায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে প্রকল্পটির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি যমুনা নদীর প্রশস্ততা কমাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গত মাসের ৬ তারিখে প্রকল্পের ওপর পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিভাগের প্রতিনিধি এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা পিইসি সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় প্রস্তাব, প্রাণ-প্রকৃতির ক্ষতিসহ এ প্রকল্প নিয়ে সকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নানা আশঙ্কার কথা তুলে ধরে। জানা যায়, নদী ছোট করতে যে ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব করা হয়েছে, তা বাংলাদেশ তো বটেই—পৃথিবীর কোনো দেশেই এর আগে প্রয়োগের নজির নেই। কোনো ধরনের জরিপ ছাড়া ঋণের টাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো যৌক্তিকতা নেই বলেও আলোচনায় উঠে আসে। বিশেষজ্ঞরা প্রকল্পটির সমালোচনা করে বলছেন, এটি একটি বিরল ও অবাস্তব প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া ঠিক হবে না। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে। বাড়তে পারে বন্যা প্লাবনের ঝুঁকি। পাশাপাশি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে দেশের অন্যতম স্থাপনা পদ্মা সেতু এবং যমুনা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা বলছেন, এর ফলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হবে। এ অবকাঠামো নির্মাণের ফলে একদিকের পানি অন্যদিকে নিয়ে যাবে। ফলে নদীর নিম্নাচলে ভাঙন দেখা দিতে পারে। প্রভাব পড়বে মাছের ওপর। এমনকি নদীর গতিবেগ বেড়ে যাবে। পাশাপাশি, এর ফলে আরও কী ধরনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে এবং প্রতিকারে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেসব গবেষণা করে তারপর প্রকল্প নেওয়ার চিন্তা করতে হবে। খোদ সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ প্রকল্পের ভয়াবহতার আশঙ্কা করে বলেন, নদী সংকোচনের ফলে যেসব এলাকায় নদী প্রবাহ থাকবে না, সেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের ওপর প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে কৃষি, মৎস্যসম্পদ এবং জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। জানা যায়, এ প্রকল্প প্রস্তাবে পরিবেশ অধিদপ্তরের নেওয়া হয়নি ছাড়পত্র। প্রকল্পে যে পাঁচ হাজার গাছ লাগানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, গাছগুলো কোথায় লাগানো হবে তারও নেই কোনো সদুত্তর। এমনকি প্রকল্প স্থানে পলি পড়ার হার এবং এর ব্যবস্থাপনা ব্যয় কত হবে সেটিরও ঠিকঠাক তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। অথচ খরচের হিসাব তারা ঠিকই করে রেখেছেন! সুতরাং এসব ব্যয় প্রস্তাবকেও অযৌক্তিক উল্লেখ করে প্রকল্প প্রস্তাব থেকে বাদ দিতে বলেছে পরিকল্পনা কমিশন। বিশেষজ্ঞদের মতো আমরাও এ প্রকল্পকে অত্যন্ত ভয়ংকর ও অবাস্তব বলে মনে করি। এ সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ লোকদের পরামর্শ এবং কোনো প্রকার গবেষণা ছাড়া এ ধরনের প্রকল্প প্রস্তাব শুধু বিপজ্জনকই নয়; আত্মঘাতীও। আমরা চাই, পরিবেশ ও মানুষের স্বার্থে এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা পর্যাপ্ত সুবিবেচনার পরিচয় দেবে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা

কে এই তামিম রহমান?

চাঁদে আঘাত হানতে পারে গ্রহাণু, পৃথিবীতে ভয়াবহ উল্কাবৃষ্টির আশঙ্কা

বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সার্ভেয়ার সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি আব্বাস, সম্পাদক নুরুল আমিন

ড্যাফোডিলের ১৩তম সমাবর্তনে চার হাজার শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান

স্ত্রী-সন্তানের কবর ছুঁয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন সাদ্দাম

উন্নয়ন ও সেবায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না : আবু আশফাক

ফুটসাল চ্যাম্পিয়নদের বরণে প্রস্তুত ছাদখোলা বাস

উত্তরাঞ্চলে যাচ্ছেন তারেক রহমান, থাকছে যেসব কর্মসূচি

৬৯ হাজার রোহিঙ্গা পাচ্ছে পাসপোর্ট, কারণ জানালেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

১০

পাকিস্তান ক্রিকেটে ‘গৃহযুদ্ধ’!

১১

একটি দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে : মাহদী আমিন

১২

উৎসবমুখর পরিবেশে মোহাম্মদপুর সরকারি কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন

১৩

গভীর নলকূপ থেকে উদ্ধার শিশুটি মারা গেছে

১৪

আবারও স্বর্ণের দামে রেকর্ড

১৫

এমপিওভুক্তির আবেদন যাচাইয়ে ১১ সদস্যের কমিটি

১৬

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের যে অভিযোগ দিল জামায়াত

১৭

চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করতে তরুণদের নেতৃত্ব জরুরি : মেয়র ডা. শাহাদাত

১৮

গভীর নলকূপে পড়া সেই শিশু উদ্ধার

১৯

১৪ বছর পর ঢাকা থেকে করাচি যাবে বিমানের ফ্লাইট 

২০
X