সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৩, ০৮:২৯ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

মানি প্লান্টের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের প্রশ্ন

রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের সোয়া ১১ কোটি টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্বিতীয় দফায় ২ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ। এ ঘটনায় সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হলো। ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে আটজনকে।

তবে এ ডাকাতির নেপথ্যের কাহিনি এখনো জানতে পারেননি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এমনকি গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে জিম্মি হওয়া গাড়িচালক ও তার ভাই ছাড়া অন্য কারও পরিচয়ও সঠিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। এসব জানতেই তাদের প্রত্যেককে পাঁচ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো তাদের তিনটি দল খুলনা, রাজশাহী, সাভারে অভিযান চালাচ্ছে। সেখান থেকে ডাকাত চক্রের অন্য সদস্য গ্রেপ্তার ও বাকি টাকা উদ্ধার করতে পারলেই আসল রহস্য জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে এই ডাকাতি হওয়ার পেছনে ওই মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড অবহেলাকেই দায়ী করছেন তারা। সঙ্গে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, আসলেই সেদিন তাদের ট্রাঙ্কে ১১ কোটি টাকা ছিল কি না?

গতকাল রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া শাখা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, গত শনিবার মিরপুর গোয়েন্দা ও উত্তরা গোয়েন্দা বিভাগ পৃথকভাবে ঢাকা, ঢাকার আশপাশ, সিলেটের সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মো. সানোয়ার হাসান (২৮), মো. ইমন ওরফে মিলন (৩৩), মো. আকাশ মাদবর (২৫), সাগর মাদবর (২২), মো. বদরুল আলম (৩৩), মো. মিজানুর রহমান (২০), মো. সনাই মিয়া (২৮) ও এনামুল হক বাদশা (২৬)।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে টাকা পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় তুরাগ এলাকায় বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের একটি মাইক্রোবাস আটকে চার ট্রাঙ্ক টাকা নিয়ে যায় একদল ডাকাত।

ওই ট্রাঙ্কগুলোতে ব্যাংকের ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ছিল বলে মানি প্লান্টের তরফ থেকে সেদিন জানানো হয়। সেদিন দুপুর থেকে বিকেলে খিলক্ষেত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি ট্রাঙ্ক উদ্ধার করা হয়, সেখানে ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিল।

অভিযান ও টাকা উদ্ধার সম্পর্কে হারুন বলেন, প্রথমে রাজধানীর বনানী থেকে সানোয়ার হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার হেফাজত থেকে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫১ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনানী থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার জোয়ার সাহারার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৩২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকার উত্তরা থেকে আকাশ ও সাগর নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর ১ কোটি ৭ লাখ টাকাসহ ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।

ডিবির অন্য একটি দল সিলেটের সুনামগঞ্জে অভিযান পরিচালনা করে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তাররা হলেন—বদরুল আলম, মিজানুর রহমান, সনাই ও এনামুল হক বাদশা। কোটি টাকার লোভ সামলাতে পারেনি চালক গত ৮ মার্চ সিলেট যাওয়ার কথা বলে ৮-১০ জন ডাকাত একটি হায়েস মাইক্রোবাস ভাড়া করে ডাকাতরা। তাদের কথামতো হায়েস গাড়িটির চালক কুর্মিটোলা বাসস্ট্যান্ডের কাছে এলে পেছনের সিট ঠিক করার কথা বলে পা বেঁধে এখানে ফেলে রাখা হয়, এরপর ওই গাড়িটিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডাচ্বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রা. লি.-এর গাড়ি ফলো করতে থাকে। এ সময় তাদের হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক পরে নেয় তারা। তারা জানত টাকা বহন করার ক্ষেত্রে মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রা. লি.-এর কোনো সিকিউরিটি ও অস্ত্র নেই।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িটি তুরাগের নির্জন স্থানে পৌঁছার পর দুই গাড়ির ধাক্কা লাগে। এই অজুহাতে গাড়ি থেকে ডাকাত দল নামে ও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তারা মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রা. লি.-এর গাড়ি থেকে কয়েকজনকে নামিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দূরে চলে যায়। এরপর গাড়িতে থাকা ম্যানেজারকে ধাক্কা দিয়ে তারা টাকার ট্রাঙ্কসহ নিজেদের হায়েস গাড়ি নিয়ে ৩০০ ফিটের নির্জন এলাকার দিকে চলে যায়।

ডিবি প্রধান হারুন বলেন, ডাকাতরা সেখানে দুটি টাকার ট্রাঙ্ক ভেঙে দুটি চালের বস্তা ও পাঁচটা ব্যাগ ভর্তি করে। বাকি দুই ট্রাঙ্কের টাকা দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। কোনো ব্যাগ না থাকায় টাকা ও ট্রাঙ্ক ফেলে পালিয়ে যায়। ড্রাইভারের সিটের ওপরে একটা ফেলে ও নিজেরা কাপড়চোপড় পরিবর্তন করে ফেলে চলে যায়। অবশিষ্ট ব্যাগটি হায়েসের ড্রাইভার আকাশ মাদবর সুস্থ হয়ে নিজ হেফাজতে নেয়। এ ছাড়া সে ট্রাঙ্ক থেকে অবশিষ্ট টাকা ভরে ভাই সাগর মাদবরের হেফাজতে দেয়। পরবর্তী সময়ে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাসা থেকে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। গাড়িতে ছিল না গার্ড-অস্ত্র, পুলিশকেও জানায়নি মানি প্লান্ট ডাচ্বাংলা ব্যাংকের টাকা বহনকারী মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ। তিনি বলেছেন, কোনো গার্ড নেই, অস্ত্র নেই, পুলিশকে আগে থেকে অবগত না করেই সেদিন ডাচ্বাংলা ব্যাংকের এতগুলো টাকা বহন করছিল মানি প্লান্ট লিঙ্ক প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিদিন তাদের চার-পাঁচটা গাড়ি এভাবে নিরাপত্তা ছাড়াই চলাচল করছিল। তাদের দু-তিনজন গানম্যান আছেন যারা অফিসেই থাকেন। অধিকাংশ সময়ই তারা থানা পুলিশকে অবহিত করেন না।

ঘটনা পর্যালোচনার তথ্য তুলে ধরে হারুন-অর-রশীদ বলেন, গ্রেপ্তারদের তথ্য ও মানি প্লান্টের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ১১ কোটি টাকা পরিবহনের সময় নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অর্থাৎ গার্ডের জন্য অস্ত্রসহ কোনো নিরাপত্তা কর্মী ছিল না। অধিকাংশ সময় এভাবে অধিক টাকা পরিবহন হয়, যা পরিবহনকৃত টাকা নিরাপত্তার বিধানে অপ্রতুল।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুষ-দুর্নীতির আখড়া জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিস

মীন রাশিতে কাজে সফল হওয়ার দিন আজ

২৭ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

প্যারিসে ভাষা দিবস উপলক্ষে পঞ্চ কবির গানের সন্ধ্যা

বাবাকে কুপিয়ে জখম, ছেলে গ্রেপ্তার

আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপের ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

পথ হারানো ৩১ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল পুলিশ

শিক্ষা সফরে মদপান, দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

১০

মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা!

১১

রাতের ঢাকায় নতুন মাদক

১২

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

রংপুরকে উড়িয়ে ফাইনালে লিটনের কুমিল্লা

১৪

যুগান্তরের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে

১৫

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার

১৬

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভিকারুননিসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

১৭

করোনায় আক্রান্ত ডিবি প্রধান হারুন

১৮

‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের প্রস্তাব বাতিল

১৯

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীনবরণ

২০
X