সাইদুল ইসলাম ও কাজী মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৩, ০৮:০৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

নেত্রীর নজর কাড়তে পিস্তল হাতে মিছিলে এমপি মোস্তাফিজ!

নেত্রীর নজর কাড়তে পিস্তল হাতে মিছিলে এমপি মোস্তাফিজ!

রাজপথে ছিল না কোনো প্রতিপক্ষ। মিছিলের সামনে নিরাপত্তায় অস্ত্রধারী পুলিশ। তবু অস্ত্র হাতে নিয়ে জনসমক্ষে মিছিল করেছেন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের সংসদ সদস্য ও বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। শুধু তাই নয়, এমন দৃশ্যের ভিডিও নিজের ফেসবুক পেজে আপলোডও করেছেন স্বয়ং এমপি। গত সোমবার রাতে এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

একাধিক দলীয় নেতাকর্মী কালবেলাকে বলেন, এমপি সবসময় এমন কিছু করেন, যার মাধ্যমে তিনি নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন। সোমবারও তার লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রদর্শন করে তিনি এ ধরনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। এদিকে পুলিশ বলছে, বিষয়টি তারা তদন্ত করে দেখছে। আর বিশিষ্টজন বলছেন, অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে মিছিল করার দৃশ্য সমাজে খারাপ বার্তা দিয়ে গেল। হোক না অস্ত্রটি লাইসেন্স করা বা লাইসেন্সবিহীন। এটি দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং আগামী যে সংসদ নির্বাচন, তার জন্য চরম একটি অশনি সংকেত। এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন সনাক চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলটি উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয় থেকে বের হয়ে উপজেলা পরিষদ গেটে পথসভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়। মিছিল শুরুর একপর্যায়ে মিছিলের পেছনে অন্যের কাছে থাকা একটি কালো ব্যাগ থেকে অস্ত্র বের করেন বাঁশখালীর এমপি। পরে ব্যাগটি উপজেলা ওলামা লীগ নেতা মৌলভী আকতারের হাতে দিয়ে দেন। অস্ত্রটি হাতে নিয়ে এমপি মিছিল শেষ করেন। এ সময় এমপি ব্যানারের সামনে থাকলেও পেছনে পৌর মেয়রসহ কমপক্ষে পাঁচজন ইউপি চেয়ারম্যান ও অসংখ্য নেতাকর্মী ছিলেন। তবে এমপির হাতে থাকা অস্ত্রটি লাইসেন্স করা বলে জানা গেছে।

বিক্ষোভ মিছিলে থাকা বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র এস এম তোফায়েল বিন হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ‘তার (এমপি মোস্তাফিজ) কাছে লাইসেন্স করা একটি অস্ত্র আছে, যা তিনি সঙ্গে রাখেন সবসময়। তাই মিছিলেও অস্ত্রটি রেখেছেন।’

মিছিলে অস্ত্র রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁশখালী থানার ওসি মো. কামাল উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, মিছিলের সময় ঘটনাস্থলে ছিলাম না। আদালতে সাক্ষী দিতে গিয়েছিলাম। যতটুকু জানি, তার (এমপি মোস্তাফিজ) একটি লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। লাইসেন্স করা পিস্তল থাকলে তো বহন করতে পারেন। এটা আইনসংগত। এখানে তো বেআইনি কিছু দেখছি না। ঘটনাস্থলে থাকলে বিস্তারিত বলতে পারতাম। তবে তার হাতে যে পিস্তল ছিল এটার লাইসেন্স আছে বলে জানতে পেরেছি।’

সনাক চট্টগ্রামের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে যে মিছিল করেছেন বা মহড়া দিয়েছেন তা একজন নাগরিক হিসেবে আমার কাছে খুব দুঃখের, বেদনার। এতে কিশোর গ্যাংসহ সন্ত্রাসীরা আরও উৎসাহিত হবে। রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি এমনিতেই সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে—সোমবারের ঘটনাটা দেখার পর অবশিষ্টটুকু আর রইল না। এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক।’

জানা যায়, ২০১৪ সালে প্রথমবার ও ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বার চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। এর পর থেকে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাতে থাকেন তিনি। নেতাকর্মীদের মারধর, নির্বাচন কর্মকর্তাকে মারধর, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, দলীয় সভায় ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য প্রদান, সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মন্তব্য, জামায়াত প্রীতি, আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ গ্রুপের মিছিলে গুলিবর্ষণ, মনোনয়ন বাণিজ্যের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংসদ সদস্য মোস্তাফিজ।

এ বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেন, প্রকাশ্য জনসভায় যদি বিএনপি নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে কবরে পাঠানোর মতো বক্তব্য দিতে পারেন, দেশের প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিতে পারেন, তবে আমি বৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে অগ্নিসন্ত্রাসকারী বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে মিছিলে অংশ নিলে তাতে ক্ষতি কী?

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘তার (মোস্তাফিজ) বিষয়গুলো নিয়ে আমরা বিব্রত। আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক রাজনীতি বিশ্বাস করে। আমরা পিস্তল সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নই। এমপি সাহেব যা করেছেন তা আওয়ামী লীগের আদর্শের পরিপন্থি। তিনি কীভাবে এটা করলেন তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা সব সময় অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি নেতা যে হুমকি দিয়েছেন তা নিন্দনীয় ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা সেই বিএনপি নেতার শাস্তি দাবি করছি। এ নিয়ে দেশব্যাপী প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।’

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘এই বিষয়ে আমাদের কোনো মতামত নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমাদের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ষণ মামলায় রায়হান গ্রেপ্তার

ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে স্পেন

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের দুই প্রকৌশলীর আর্থিক লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল

কামাল লোহানীর পঞ্চম প্রয়াণ দিবসে উদীচীর স্মরণ সভা

রাসেলস ভাইপার মারলেই ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার

ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগে আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

নারী নির্যাতন মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে

ডেনমার্কের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের হতাশার ড্র

বাংলাদেশের সব অর্জন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে : পলক

আফগানদের হারিয়ে সুপার এইটে শুভ সূচনা ভারতের

১০

চুরি করতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতা ধরা

১১

মজুদদারদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রেখে নতুন আইন হচ্ছে : খাদ্যমন্ত্রী

১২

ডিমলায় বুড়ি তিস্তা নদীর বাঁধে ভাঙন, পানিবন্দি ২ শতাধিক পরিবার

১৩

রাসেল ভাইপার নিয়ে ফেসবুকে ভুয়া পোস্ট ভাইরাল, জনমনে আতঙ্ক

১৪

ঈদের ছুটিতে ছিলেন অফিসে, মিলল লাশ

১৫

ল্যাবএইডে দিনে ৭০টির বেশি এন্ডোসকপি, অস্বাভাবিক বলছেন বিশেষজ্ঞরা

১৬

প্রকাশ্যে মদ খেয়ে মাতলামি, জেলে গেলেন যুবক

১৭

ওসির কেরামতিতে মায়ের কোলে ‍ফিরল শিশু

১৮

পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ১০ সাপ, বসবাস যেসব এলাকায়

১৯

বন্যায় ঈদ আসেনি সিলেটের নিম্নাঞ্চলে

২০
X