কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৩, ১১:৪০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্ঘটনার চক্র বন্ধে মানুষের জীবনকে মূল্য দিন

দুর্ঘটনার চক্র বন্ধে মানুষের জীবনকে মূল্য দিন
কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটি নিয়ে আলোচনা হয়, সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু এ থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না, সুপারিশও বাস্তবায়ন হয় না। ফলে আবার দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার এই চক্র বন্ধ করতে মানুষের জীবনকে সম্মান ও মূল্য দিতে হবে। ভবন মালিকদের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও এগিয়ে আসতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের তদারকের গাফিলতিতে আমাদের জীবন এভাবে অনিরাপদ ও মূল্যহীন হয়ে পড়েছে, তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনাও অত্যন্ত জরুরি। ‘নগরে নাগরিকদের বসবাস ঝুঁকি ও জীবনের নিরাপত্তা’ নিয়ে গতকাল শুক্রবার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন গবেষণা এবং নীতি বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সম্প্রতি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন ভবনে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে মৃত্যুর ঘটনাকে গাফিলতিজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেন আইপিডির নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ভবন মালিকদের নিয়ম মানাতে বাধ্য করার দায়িত্বে থাকা সংস্থা ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না। মানুষের জীবনকে মূল্য দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা রোধে যার যা করণীয়, তা করতে হবে। সরকার অবকাঠামো খাতের উন্নয়নে যে ব্যয় করছে, তার ১০ ভাগের ১ ভাগও নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। আইপিডির পরিচালক চৌধুরী মো. জাবের সাদেক বলেন, রানা প্লাজা ধসের পর বলা হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। কিন্তু সিদ্দিকবাজারে বিস্ফোরণের পর দেখা গেল, ভবনটিতে ঠেক দেওয়ার (শোরিং) মতো যন্ত্র ফায়ার সার্ভিসের নেই। আরও কত বড় দুর্ঘটনা ঘটলে অবস্থার পরিবর্তন হবে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘মানুষের জীবনকে মূল্য দিন, সবকিছুই পরিবর্তন হয়ে যাবে।’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, আইনের প্রয়োগ ও সবার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যাবে। অনুষ্ঠানে রাজউকের প্রধান নগর-পরিকল্পনাবিদ আশরাফুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জরুরিভাবে সাড়া দেওয়ার প্রতি বেশি জোর দিতে হবে। দুর্ঘটনার জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও গ্যাস নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, এগুলো ছাড়া এখন আমাদের জীবন চিন্তাও করা যায় না। উন্নত দেশেও এগুলোও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমাদের ব্যর্থতা হচ্ছে, এগুলো ব্যবহারের ঝুঁকিকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। আমাদের দেশে দুর্ঘটনায় (নির্মাণ খাতে) কেউ মারা গেলে ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এভাবে মানুষের জীবনকে সস্তা করে ফেললে নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’ অনুষ্ঠানে ভবন মালিকদের উদ্দেশে প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ খান বলেন, ভবন মালিকদের সচেতন হতে হবে। রাষ্ট্র আপনাকে এ কাজে সহযোগিতা করবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, জাপানের ভবনে সরকারি সংস্থাগুলো ইলেকট্রিক্যাল ও গ্যাসের লাইনগুলো প্রতি মাসেই এসে পরিদর্শন করে যায়, ফলে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কমে যায়। নীতিনির্ধারকদের প্রতি প্রশ্ন রেখে উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ রেদওয়ানুর রহমান বলেন, দেশে এত আইন-কানুন থাকার পরও কীভাবে সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিম্নমানের ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে ও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে? আইপিডির পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, নির্মাতা বা ভবন মালিকরা ইমারত নির্মাণের খরচ কমাতে ভবনে বসবাসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

শবেবরাতে কি ভাগ্য লেখা হয়? যা বলছেন ইসলামি স্কলার

টেইলরের পরামর্শে বদলায় রোজের পথচলা

চাকরির প্রত্যাশায় রাশিয়ায় গিয়ে ‘যুদ্ধের ফাঁদে বাংলাদেশিরা’

১৬ দেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ, নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ইইউ-কমনওয়েলথও

শীত নিয়ে দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর

দেশীয় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিততে নতুন পরিকল্পনা ইউক্রেনের

সাদিক কায়েমের ‘ডিল’ বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদলের তীব্র প্রতিক্রিয়া

ঘাড়ের ব্যথা কেন হয়, কীভাবে কমাবেন এবং কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে

‘মাদকমুক্ত সুস্থ সমাজ গড়তে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই’

১০

এনসিপির ৩৬ দফা ইশতেহারে কী আছে

১১

শীতকে বিদায় জানালেন সুনেরাহ 

১২

বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০

১৩

ডাকাতির আগেই ভেস্তে গেল ছক, আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৮ সদস্য গ্রেপ্তার

১৪

এগোচ্ছে মার্কিন ‘সামরিক বহর’, যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের

১৫

লিটনরা না থাকলেও বিশ্বকাপে দায়িত্ব পাচ্ছেন দেশের দুই আম্পায়ার

১৬

জবির ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় প্রতি আসনে কত জন লড়ছেন?

১৭

‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর’ সঙ্গে পাকিস্তানি বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষে নিহত ৪১

১৮

অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ : ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৫

১৯

নিউ হরাইজন ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আনন্দঘন স্পোর্টস ডে

২০
X