রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৩, ০৯:৩৮ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

কাতারে প্রধানমন্ত্রী, নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের সরকারের অধীনে নির্বাচন অবশ্যই অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক স্বৈরশাসকরা বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। তখন নির্বাচনটা শুধু একটা খেলা ছিল। গতকাল বুধবার দোহার র্যাফলস হোটেলে কাতার ইকোনমিক ফোরামে ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আগামী নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। কাতার ইকোনমিক ফোরামের এডিটর অ্যাট লার্জ হাসলিন্ডা আমিনের অর্থনীতি-রাজনীতিসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নত দেশ হওয়া উচিত। সেটিই আমার লক্ষ্য। জনগণের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি, কেন আমি সেটা নষ্ট করব। অবশ্যই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।

বাংলাদেশের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) স্বাচ্ছন্দ্য বোধ না-ও করতে পারে। কিন্তু অন্য অনেক দল আছে, যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। কিছু দল আছে, যারা নির্বাচনে অংশ নেবে না। তারা কীভাবে অংশগ্রহণ করবে? কারণ, তাদের আমলে দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আমাদের জনগণ কষ্ট পেয়েছে। বিএনপিকে একটি অপরাধী ও খুনিদের দল হিসেবে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, তাদের সময় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে

গিয়েছিল। দেশের সবত্রই ছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং শোষণ। তারা কখনো মানুষকে নিয়ে ভাবেনি। জনগণের দিনে একবেলা খাবার পাওয়া ছিল খুব কঠিন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর জনগণের সবকিছু নিশ্চিত করেছে। তাই এখন নির্বাচন জনগণের অধিকার। আমরা জনগণের জন্য কী করেছি, মানুষ এটা বুঝতে পেরেছে। তারা যদি আমাদের ভোট দেয় তাহলে আছি, যদি না দেয়, ঠিক আছে।

শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালে তার অনুপস্থিতিতে তাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা এবং পরে দেশে ফিরে আসার কথা স্মৃতিচারণ করে বলেন, তখন থেকে আমরা গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রাম শুরু করি। এটা ছিল আমাদের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার সংগ্রাম এবং আমরা এটি করেছি। শেখ হাসিনা দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তিনি এখানে আছেন জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। কারণ জনগণেরই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত কে দেশ পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, এটি (ভোট) জনগণের শক্তি, আমি জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে চাই। আমি এখানে ক্ষমতা দখল করার জন্য নয় বরং আমি আমাদের জনগণের ক্ষমতায়ন চাই, তাদের সরকার তাদেরই বেছে নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত।

বিএনপিকে নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে তো কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেনি। কী ছিল সেই নির্বাচনের ফলাফল। যে দলটি (বিএনপি) প্রশ্ন তোলে তাদের দল, তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দল মিলে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে মাত্র ২৯টি সিট পেয়েছিল।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে বিভিন্ন উপনির্বাচনের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের আমলে অনেক উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে। এসব নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। আপনি দেখতে পারেন, কারা সমস্যা তৈরি করছে, আমরা নই। তবে প্রতিটি নির্বাচনে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতে পারে।

সরকার সবাইকে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুরোধ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আপনাকে বলতে পারি, আমি এখানে আছি আমার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং এটা আমাদের সংগ্রাম।

সাম্প্রতিক আইএমএফের ঋণের বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা লোন পরিশোধ করতে পারে, আইএমএফ শুধু তাদের লোন দেয়। কোনো দেশ লোন পরিশোধ করতে পারবে কি পারবে না, সেটা বিবেচনা করে আইএমএফ লোন দেয়। অবশ্যই আমরা লোন পরিশোধে সক্ষম।

কাতারের আমিরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক : কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটিতে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠকে জ্বালানি, বিনিয়োগ, কাতারে বাংলাদেশি জনশক্তি, মুসলিম উম্মাহর বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। ‘আমিরি দেওয়ানে’ এ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, খুবই উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে এ বৈঠকটি হয়।

বৈঠকে জ্বালানির বিষয়ে কাতারের আমির বলেন, বাংলাদেশে অধিকতর জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন একটি চুক্তি সই নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন বন্ধু দেশ হিসেবে কাতার বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

মোমেন বলেন, কাতারের আমিরের প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন। শিগগির যে কোনো সময় নতুন চুক্তি সই হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে কাতারের আমির বলেন, তারা এক সময় জানতেন বাংলাদেশ দুর্যোগ এবং দারিদ্র্যপীড়িত দেশ। কিন্তু শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর তিনি বাংলাদেশের খাদ্য সংকট দূর করেছেন।

এ বছর বাংলাদেশ সফরে শেখ হাসিনার আমন্ত্রণের জবাবে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি বলেন, অবশ্যই তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাতার ফাউন্ডেশনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের স্কুল ‘আওসাজ একাডেমি’ পরিদর্শন করেন।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুষ-দুর্নীতির আখড়া জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিস

মীন রাশিতে কাজে সফল হওয়ার দিন আজ

২৭ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

প্যারিসে ভাষা দিবস উপলক্ষে পঞ্চ কবির গানের সন্ধ্যা

বাবাকে কুপিয়ে জখম, ছেলে গ্রেপ্তার

আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপের ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

পথ হারানো ৩১ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল পুলিশ

শিক্ষা সফরে মদপান, দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

১০

মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা!

১১

রাতের ঢাকায় নতুন মাদক

১২

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

রংপুরকে উড়িয়ে ফাইনালে লিটনের কুমিল্লা

১৪

যুগান্তরের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে

১৫

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার

১৬

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভিকারুননিসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

১৭

করোনায় আক্রান্ত ডিবি প্রধান হারুন

১৮

‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের প্রস্তাব বাতিল

১৯

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীনবরণ

২০
X