রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০
কাজী মনজুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৪৬ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটছে বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম নগরীতে দিন দিন বাড়ছে নির্বিচারে পাহাড় কাটার প্রবণতা। একদিকে ছিন্নমূলরা মাথা গোঁজার ঠাঁই বানাচ্ছেন, অন্যদিকে বিত্তশালীরা চালাচ্ছেন দখল। পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের পরও কমেনি এ প্রবণতা। সম্প্রতি নগরীর বায়েজিদ লিঙ্ক রোডের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের বিরুদ্ধে উঠেছে পাহাড় কাটার অভিযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়টির শেষ প্রান্তে অবকাঠামোগত উন্নয়নে পাহাড় কেটে ভবন ও সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট পাহাড় কর্তন ও ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় মোচনের অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে বায়েজিদ বোস্তামী লিঙ্ক রোডের পাশে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন প্রতিষ্ঠার জন্য ১০৮ দশমিক ৪০ একর জমি বিনামূল্যে বরাদ্দ দেয় সরকার। পরে ২০২২ সালে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টিকে পাহাড়ের ওপর অবস্থানগত ছাড়পত্র দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এই ছাড়পত্রে কোনো ধরনের পাহাড় কর্তন বা মোচন করা যাবে না বলে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি সেই শর্ত না মেনে ভবন এবং অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করছে।

সেই জেরে গত ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে যান অধিদপ্তরের তিন কর্মকর্তা। বিশ্ববিদ্যালয়টির শেষ প্রান্তে পাহাড় কেটে ভবন ও সড়ক নির্মাণের প্রমাণ পান তারা। এ সময় জরিপ কর্মকর্তা না থাকলেও প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ঘনফুট পাহাড় কর্তন এবং ২০ হাজার ঘনফুট পাহাড় মোচন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রমাণ মেলে। তা ছাড়া সড়ক নির্মাণে একটি প্রাকৃতিক ছড়া ভরাট করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে পরিবেশ আইন অমান্য করা হয়েছে বলেও মনে করছেন তারা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারাই পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (মহানগর) হিল্লোল বিশ্বাস কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পাহাড় কাটা হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে। পরিবেশের ছাড়পত্রে কোনোভাবেই পাহাড় কাটতে পারবে না—এ শর্ত ছিল। কিন্তু তা লঙ্ঘন করে পাহাড় কাটছে তারা। এখন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি পাহাড় কাটা প্রতিরোধে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার লিঙ্ক রোডে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। অভিযানে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, আরেফিননগরে বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানায় থাকা পাহাড়ের কিছু অংশ কেটে সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। খোঁজ নিতেই তারা জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ দেওয়া শ্রমিকরাই সেখানে কাজ করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. সানাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে পাহাড় কাটার কোনো ঘটনা ঘটেনি। যে রাস্তা কাটার কথা বলা হচ্ছে, তা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তৈরি করা পুরোনো রাস্তা। একটি চুক্তির মাধ্যমে তা আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে সিডিএ। রাস্তার পাশে আমাদের ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সেখান থেকে যে মাটি উঠেছে তা রাস্তার ওপরে ফেলেছি। অনেক আগেই পাহাড় কেটেছিল সিডিএ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বায়জিদ লিঙ্ক রোডের প্রকল্প পরিচালক আসাদ বিন আনোয়ার বলেন, রাস্তাটা হচ্ছে পাহাড়ের মাঝখানে। আমরা পরিবেশের অনুমতি নিয়ে কাজ করেছিলাম। আর অনুমতি ছাড়া পাহাড় না কাটার জন্য এশিয়ান ইউনির্ভাসিটি ফর উইমেনকেও বলা হয়েছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঘুষ-দুর্নীতির আখড়া জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়ন ভূমি অফিস

মীন রাশিতে কাজে সফল হওয়ার দিন আজ

২৭ ফেব্রুয়ারি : নামাজের সময়সূচি

মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব এলাকায় যাবেন না

কী ঘটেছিল ইতিহাসের এই দিনে

প্যারিসে ভাষা দিবস উপলক্ষে পঞ্চ কবির গানের সন্ধ্যা

বাবাকে কুপিয়ে জখম, ছেলে গ্রেপ্তার

আধিপত্য বিস্তারে দুই গ্রুপের ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

পথ হারানো ৩১ দর্শনার্থীকে উদ্ধার করল পুলিশ

শিক্ষা সফরে মদপান, দুই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

১০

মিয়ানমারে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিদ্রোহীরা!

১১

রাতের ঢাকায় নতুন মাদক

১২

বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন এর কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

১৩

রংপুরকে উড়িয়ে ফাইনালে লিটনের কুমিল্লা

১৪

যুগান্তরের অবদান চির স্মরণীয় হয়ে থাকবে

১৫

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদ গ্রেপ্তার

১৬

যৌন হয়রানির অভিযোগে ভিকারুননিসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

১৭

করোনায় আক্রান্ত ডিবি প্রধান হারুন

১৮

‘বঙ্গবন্ধু বিচ’ নামকরণের প্রস্তাব বাতিল

১৯

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চবি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবীনবরণ

২০
X