মো. তানজিমুল ইসলাম
প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০২২, ০৯:২৫ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ হোক

অতি সাধারণ মানুষের কাছে ‘জেন্ডার’ মানে নারীর প্রতি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ‘নির্যাতন’ টাইপের একটি বিষয়। আশির দশকে বিষয়টি প্রায় এমনই ছিল কিন্তু কালক্রমে এ ধারণার অনেক পরিবর্তন সাধিত হলেও জনমনে ভ্রান্ত ধারণাটি যেন অস্থি-মজ্জার সঙ্গে মিশে আছে। উন্নয়ন জগতে ‘জেন্ডার’ হলো নারী-পুরুষের সমতায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বা বিশেষ উদ্যোগ। জাতীয় উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সমাজে নারী-পুরুষরা যখন সমানতালে কাজ করছে এবং সর্বোপরি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব বণ্টন করে নিচ্ছে, জেন্ডারের উদ্দেশ্যও ঠিক তখনই সফল হচ্ছে। সময়ের প্রয়োজনে, পরিস্থিতির বিবেচনায় কৌশলগত কারণে ও সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর প্রতি পুরুষের; পক্ষান্তরে, পুরুষের প্রতি নারীর যে সহযোগিতা-সহমর্মিতা ও কাজ করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে দেওয়ার যে উদ্যোগ, তা-ই মূলত উন্নয়ন জগতে ‘জেন্ডার’ হিসেবে অভিহিত।

বাংলাদেশ স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পার করেছে; সরকারি-বেসরকারি নানাবিধ পদক্ষেপের ফলে নারীরা আজ প্রায় সর্বদিক থেকেই এগিয়ে চলেছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অর্থনীতি-অধিকার-মতপ্রকাশের স্বাধীনতা-স্বনির্ভরতায় নারীরা দৃষ্টান্তমূলক অবদান রাখলেও আজও নারীর প্রতি সহিংসতা ঘটে হরহামেশায়। ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে’ বিশ্বব্যাপী ক্যাম্পেইন, প্রতিবাদ, সমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধন কর্মসূচি, ইত্যাদি প্রচলিত। বছরের পর বছর চলে যায়, সময়ের আপন নিয়মে কর্মসূচি পালিত হতে থাকে, তবু একটি বিশেষ শক্তিধর গোষ্ঠী বহাল তবিয়তে তাদের পৌরুষ আচরণ প্রতিষ্ঠা করতে থাকে নানা কায়দায়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বাংলাদেশেও একজন মেয়েকে ‘নারী’ হয়ে ওঠা পর্যন্ত তার চলাফেরা, মতামত প্রকাশ এমনকি যাবতীয় ইচ্ছা-অনিচ্ছার গাইডলাইন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশেই কমপক্ষে এক-তৃতীয়াংশ নারী নির্যাতনের শিকার হন। বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর—এই ১৬ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেছে। সত্যিকার অর্থে যতদিন নারীরা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারবে না, যতদিন নারীদের নিরাপত্তা ও সহিংসতা নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে, ততদিন বিশ্ব নারীদের সমানাধিকারের ব্যাপারে অহংকার করতে পারবে না।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারীদের বিভিন্ন ঐক্যজোট রয়েছে, টকশোতে আলোচনার ঝড়ও ওঠে। অথচ নির্যাতিত নারীরা এখনো লুকিয়ে-লুকিয়ে, ফুঁপিয়ে-ফুঁপিয়ে কাঁদছে আড়ালে-আবডালে! এহেন অনিয়ম-অন্যায়-অনাচার-বৈষম্য দূরীকরণে সবার ঐকমত্য সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আসুন, জাতি-ধর্ম-লিঙ্গ-বর্ণ-নির্বিশেষে জেন্ডার সহিংসতা নির্মূল করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রত্যেকে জেন্ডার সংবেদনশীল হই এবং আসুন, বন্ধ করি নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মারধরের শিকার খুবি শিক্ষার্থী 

আইন ভেঙে গরু জবাই, বিক্রেতাকে জরিমানা

স্থলবন্দরে মুদ্রা বিনিময় বুথ না থাকায় ভোগান্তি

পুলিশ পদক পেলেন ৪০০ জন কর্মকর্তা

চিনির দাম নিয়ে আবারও সিদ্ধান্ত বদলালো সরকার

মদপানেই পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ও স্ত্রীর মৃত্যু, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন

ট্রান্সকম গ্রুপের ৫ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

শস্য দানায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা

জাবির বর্তমান পরিস্থিতি ভর্তি পরীক্ষায় প্রভাব ফেলেনি : উপাচার্য

প্রশাসনে বড় রদবদল

১০

পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগের দাবিতে রাবিতে আমরণ অনশন

১১

এবার রাবি কর্মকর্তার পেনশন নিয়ে ‘ইউএস অ্যাগ্রিমেন্ট’র প্রতারণা, মামলা

১২

মায়ের জানাজায় এসে লাশ হলেন ইতালি প্রবাসী

১৩

নতুন কর্মসূচি ডেকেছে জিএম কাদেরপন্থিরা

১৪

বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির অনুমতি দিল ভারত

১৫

ময়মনসিংহে ট্রাকের ধাক্কায়, নিহত ২ আহত ৩

১৬

কলাগাছের প্রতীকী শহীদ মিনারেই ভরসা ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের

১৭

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত বিদেশি নাগরিকের আইফোন ছিনতাই, অতঃপর...

১৮

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৯০ অভিবাসী গ্রেপ্তার

১৯

আগরতলায় গভীর শ্রদ্ধায় ভাষা শহীদদের স্মরণ

২০
X