সম্পাদক ও প্রকাশক : সন্তোষ শর্মা । বিভাগীয় প্রধান (অনলাইন): পলাশ মাহমুদ
কালবেলা মিডিয়া লিমিটেডের পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক নিউমার্কেট সিটি কমপ্লেক্স, ৪৪/১, রহিম স্কয়ার, নিউমার্কেট, ঢাকা থেকে প্রকাশিত এবং ২৮/বি, টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল ঢাকা, শরীয়তপুর প্রিন্টিং প্রেস থেকে মুদ্রিত।
দুনিয়ার আলো দুচোখ ভরে কোনোদিন দেখা হয়নি মিফতাহুল জান্নাত হিরার। তবে শিক্ষার আলোয় পূর্ণ করেছেন হৃদয়। এবার সেই আলো ছড়িয়ে দেওয়ার পালা। সেই মহান দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে জান্নাত হিরা বললেন, ‘প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। যথাযথ সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হলে অনেকেই স্বনির্ভর ও স্বাবলম্বী হতে পারেন।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরমাস্টার্সে অধ্যয়নরত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মিফতাহুল জান্নাত হিরা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার পশ্চিমপাড়ার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। গত মঙ্গলবার নিজ উপজেলার বিহার কলেজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছেন। এ সময় বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজমল হোসেনসহ অন্য শিক্ষকরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।
চাকরি পাওয়ায় অনেক আনন্দিত জানিয়ে হিরা বলেন, ‘দৃষ্টিহীন মানুষ বলে যদি কোনো অবহেলার শিকার না হই, তাহলে শিক্ষকতা করা সম্ভব।’ তিনি চাকরির ক্ষেত্রে সবার সহযোগী মনোভাব প্রত্যাশা করেন।
মিফতাহুল জান্নাত হিরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে অনার্স করায় ২০২১ সালে জাতীয়ভাবে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে পুরস্কৃত করেন। চার ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে সবার ছোট
তিনি। হিরার মতো তার বড় দুই বোন লাভলী খাতুন ও রেশমা খাতুনও জন্মের পর থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। চোখে না দেখলেও কারও ওপর নির্ভরশীল নন তারা। লাভলী খাতুন স্নাতক শেষে একটি প্রকাশনীর ব্রেইল পদ্ধতির বই লিখে দেন ঘরে বসে।
মিফতাহুল জান্নাত হিরা বলেন, মাধ্যমিক পর্যন্ত তার লেখাপড়ায় এবিসি নামে একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তা করলেও উচ্চশিক্ষায় তারা আর এগিয়ে আসেনি। পারিবারিক উদ্যোগেই তিনি ২০১৪ সালে বগুড়া সরকারি মজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন জিপিএ ৫ পেয়ে। এরপর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হন।
লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির আবেদন করেন। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে বিশেষ ব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপর মৌখিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত নিয়োগ পেয়ে চাকরিতে যোগদান করেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজমল হোসেন বলেন, এমন প্রতিভার এক নারীকে সহকর্মী হিসেবে পেয়ে আমরা গর্বিত। তার সার্বিক বিষয়ে আমরা খেয়াল রাখব।
বগুড়ার সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাবেদ আহম্মেদ বলেন, বগুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে মিফতাহুল জান্নাত হিরা একমাত্র দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী। তিনি গত মঙ্গলবার সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন।
বগুড়া জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এসএম কাওসার রহমান বলেন, বগুড়ায় সরকারি কোনো অফিসে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কর্মকর্তা-কর্মচারী এতদিন ছিলেন না। মিফতাহুল জান্নাত হিরা নামে একজন নারী এ প্রথম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হিসেবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি পেয়েছেন। নিঃসন্দেহে এটি অনেক আনন্দের খবর।
কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ
জনপ্রিয়
রাতের আঁধারে মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা
১
বাংলাদেশকে সুখবর দিল কুয়েত
২
শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীদের অনুদানের আবেদন শুরু
৩
শনিবার ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
৪
মান্নাকে সিসিইউতে স্থানান্তর
৫
শীতার্ত মানুষের পাশে মানবিক সহায়তা
৬
জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে যা বললেন আসিফ
৭
‘রাজনীতি মানে সেবা এই দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন খালেদা জিয়া’
৮
নির্বাচিত হলে সব ধর্মের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো : হাবিব