কালবেলা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মার্চ ২০২৩, ০৮:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

সহকারী সচিব হওয়ার পর কেউ ঢাকার বাইরে থাকতে চায় না : এলজিআরডিমন্ত্রী

সহকারী সচিব হওয়ার পর কেউ ঢাকার বাইরে থাকতে চায় না : এলজিআরডিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, সহকারী সচিব হওয়ার পর এখন কেউ ঢাকার বাইরে থাকতে চায় না। একটি কারণে ঢাকার বাইরে মফস্বলে এলাকায় থাকতে চায় সেটা হচ্ছে অভিজ্ঞতা, যা উচ্চপর্যায়ের পদোন্নতির জন্য। আর কেউ ঢাকার বাইরে যেতে চায় না। তাদের সামর্থ্য বেড়েছে। আগে বেতন ছিল চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এখন বেতন হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

আজ বৃহস্প‌তিবার রাজধানীর গুলশানে দুই দিনব্যাপী ঢাকা উত্তর সিটি স্যানিটেশন ট্রেড ফেয়ারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় বাড়ির মূল্য ও জীবনযাত্রার মান বেশি হলে কেউ থাকতে চাইবে না। ১৯৯৬ সালে যখন আমি প্রথম সংসদ সদস্য হই তখন আমার বন্ধুরা সহকারী সচিব ও কলেজের প্রফেসর হয়েছিল, তখন তারা বলতেন ঢাকার বাইরে অমুক খানে, তমুক খানে আমাকে দেন। তখন তাদের বেতন কম ছিল। তখন তারা ঢাকায় ঘর ভাড়া দিয়ে থাকতে পারত না। জীবনযাত্রার মান তখন খুব ব্যয়বহুল ছিল।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে থাকতে হলে কত লোক বসবাস করবে তা নির্ধারণ করতে হবে। কেন গুলশানের পানির দাম বেশি হবে না? ইউকেতে পানি খাবেন ৫০ টাকা দিয়ে। এখানে এক হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা। আপনি গুলশানে থাকেন মাসে কয়েক কোটি টাকা আপনার রোজগার। গুলশানে বসবাস করবেন আর ভর্তুকি দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন—তা হবে না।

টোকিও শহরে বসবাসের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, টোকিও শহরে যারা বসবাস করে তাদের দুই লাখ টাকা বেশি খরচ করতে হয়। যারা গুলশানে বসবাস করেন তাদের অবশ্যই জীবনযাত্রার খরচ বাড়াতে হবে। সারা বাংলাদেশ উন্নত করতে হবে। দেশের জন্য একটি মাস্টারপ্ল্যান করে এগোতে হবে। যত্রতত্র খেয়াল খুশিমতো স্থাপনা তৈরির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

নাগরিকদের ইতিবাচক মনোজাগতিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, আইন ও নিয়মকানুনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নাগরিকরাই উন্নত ও স্মার্ট নগরের প্রধান কারিগর। বাসযোগ্য ঢাকার জন্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পয়ঃনিষ্কাশন, খোলা জায়গা, খেলার মাঠ থেকে শুরু করে জনসংখ্যার ঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা থাকলে বাসযোগ্য ঢাকা গড়া সম্ভব।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নাগরিকদের সঠিক পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়ে সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালে পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য ঢাকা শহরকে পাঁচটি ক্যাচমেন্ট এলাকায় ভাগ করেন। কারণ দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা বাসযোগ্য ঢাকার অন্তরায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সব বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে আমরাও বাসযোগ্য ঢাকার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব। বাসযোগ্য ঢাকা বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন সমস্যা এবং তার সমাধান আজ চিহ্নিত।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরে প্রতিদিন ৬ হাজার টন বর্জ্য উৎপাদিত হয়। এ বর্জ্য সঠিক ব্যবস্থাপনায় আনা না গেলে বাসযোগ্য ঢাকার স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। জাপান, সিঙ্গাপুরের মতো দেশও এক সময় এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল এবং তারা সফলভাবে তা মোকাবিলা করে স্মার্ট নগর গড়তে পেরেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, গুলশান, বনানী ও বারিধারা অনেকটা ম্যানহাটন শহরের মতোই অভিজাত ও ব্যয়বহুল। কিন্তু এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এসব এলাকায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি বানালেও সুয়ারেজের ব্লাক ওয়াটারের সংযোগ আমাদের সারফেস ড্রেনে দিয়ে রেখেছে। অভিজাত এলাকায় পয়ঃবর্জ্যের অবৈধ সংযোগ দুঃখজনক। এমনো অনেক বাড়ি আছে দুটি বা তিনটি বিএমডব্লিউ গাড়ি রয়েছে। কিন্তু অল্প টাকা খরচ করে সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট করেনি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটি সুন্দর শহর, একটি দূষণমুক্ত শহর। আমরা চাই শহরের খালগুলো হবে দূষণমুক্ত। এ জন্য আমাদের সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে, দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাসা-বাড়ির পয়ঃবর্জ্যের সংযোগ সারফেস ড্রেন (স্ট্রম ড্রেন) অথবা খালে দেওয়া যাবে না। পয়ঃবর্জ্যের লাইন খালে গিয়ে প্রতিনিয়ত খালকে দূষণ করছে। দূষণের ফলে খালে মাছের চাষ না হয়ে সেখানে মশার চাষ হচ্ছে। সেটি আর হতে দেওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যানে ভ্যান লিউয়েন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিঞা, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ইউনিসেফ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সেলডন ইয়েট, নগর ও পরিবেশবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব, সাবেক সচিব হেদায়েতুল্লাহ মামুন এবং বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় সরকারের : জাগপা

সিলেটে বিপুল পরিমাণ আতশবাজি উদ্ধার

আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা

অষ্টম শ্রেণি পাসে মিনিস্টার গ্রুপে নিয়োগ, পদসংখ্যা ২০

খুলল সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র, আছে শর্ত

আফগানদের যেভাবে হারালে সেমিতে খেলবে শান্তরা

বাসের ধাক্কায় নারীসহ নিহত ২

খোঁজ মিলল বিলাসী ভেড়ার, দাম ৮০ লাখ

ছেলেকে বাঁচাতে যাওয়ায় বাবাকে পানিতে চুবিয়ে হত্যা

ইসরায়েলের স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুর ফুটেজ প্রকাশ করল লেবাননের যোদ্ধারা

১০

খুলে দেওয়া হলো তাহিরপুরের পর্যটন স্পট

১১

সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ওয়াকার-উজ-জামান

১২

এসিআইয়ে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ, কর্মস্থল ঢাকা

১৩

আ.লীগ মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করে : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

১৪

ছাত্রলীগ নেতা-নেত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল

১৫

খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় মোহাম্মদপুরে দোয়া মাহফিল 

১৬

খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে : ফখরুল

১৭

মতিউরের দুর্নীতি তদন্তে দুদকের ৩ সদস্যের টিম গঠন

১৮

থানচি ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল

১৯

হোটেলে নারী পুলিশের সঙ্গে ধরা, ডেপুটি সুপার হলেন কনস্টেবল

২০
X